শেয়ার বাজার কি ? শেয়ার বাজার কিভাবে কাজ করে ?

শেয়ার বাজার কি । শেয়ার বাজার কিভাবে কাজ করে ।

টিভিতে কিংবা খবরের কাগজে আমরা মাঝে মাঝে শেয়ার বাজারের খবর শুনি । অনেক সময় শোনা যায় যে শেয়ার বাজারের অবস্থা খুবই খারাপ । আবার বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় শেয়ার মার্কেটের সূচক লেখা থাকে । বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আমরা এসবের কিছুই বুঝিনা । 

আবার অনেক সময় দেখা যায় অনেকে শেয়ার বাজারে ইনভেস্ট করে তার সবকিছু হারিয়েছেন । 

শেয়ার বাজার সম্পর্কে যদি আপনার মনে প্রশ্ন জাগে   অথবা শেয়ার বাজারে যদি আপনি ইনভেস্ট করতে চান । তাহলে আগে শেয়ারবাজার সম্পর্কে ভালোভাবে খোঁজখবর নিতে হবে । 

শেয়ারবাজার কিভাবে কাজ করে সে সম্পর্কে ভালো জ্ঞান রাখতে হবে এবং শেয়ার বাজারের মার্কেট এনালাইসিস করতে হবে । 

আজকের এই আর্টিকেলের মধ্যে আমরা শেয়ারবাজার সম্পর্কে বিস্তারিত জানবো ।

স্টক মার্কেট / শেয়ার বাজার কি ?

শেয়ার বাজার কে অনেক সময় স্টক মার্কেট বলা হয় । ইংরেজিতে Share Market । Share শব্দের অর্থ হল অংশীদার এবং Market শব্দের অর্থ হলো বাজার ।

শেয়ার বাজার হলো এমন একটি বাজার যেখানে স্টক এক্সচেঞ্জে রেজিস্টার কৃত কোম্পানিগুলোর শেয়ার ক্রয় বিক্রয় করা যায় । এখানে শেয়ার হিসেবে কোম্পানির একটা নির্দিষ্ট অংশের মালিকানা ক্রয় বিক্রয় করা হয় ।

আরো পড়ুন,

স্টক এক্সচেঞ্জ কি

আপনি হয়তো স্টক এক্সচেঞ্জ শব্দটি শুনে থাকবেন । স্টক এক্সচেঞ্জ হলো এমন একটি প্রতিষ্ঠান যারা শেয়ার ক্রয় বিক্রয় করে থাকে ।

স্টক এক্সচেঞ্জ
স্টক এক্সচেঞ্জ

স্টক এক্সচেঞ্জ এর মধ্যেই কোম্পানিগুলো তালিকাভুক্ত হয় এবং তাদের শেয়ার বিক্রি করতে পারে । আর যারা শেয়ার মার্কেট থেকে শেয়ার কিনতে চায় তারা Stock Exchange থেকে শেয়ার কিনে ।

 বাংলাদেশের স্টক এক্সচেঞ্জ এর মধ্যে রয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ । আবার ভারতের স্টক এক্সচেঞ্জ এর মধ্যে রয়েছে Calcutta Stock Exchange, National Stock Exchange of India ।

শেয়ার বাজার কিভাবে কাজ করে ?

কোন একটি কোম্পানি যখন একটি নির্দিষ্ট পরিমাণে বড় হয় তখন সে স্টক মার্কেটে রেজিস্টার্ড করতে পারে । স্টক মার্কেটে রেজিস্টার করার পর কোম্পানিটি তার মালিকানা কিছু অংশ শেয়ার বাজারে শেয়ার হিসেবে বিক্রি করতে পারে  ।

কোম্পানিগুলোর চাহিদার উপর ভিত্তি করে তাদের শেয়ারের দাম কম বেশি হয় । শেয়ারের দাম কমবে না বাড়বে এটি তার নির্দিষ্ট করে বলা যায় না । শেয়ার বাজারে মার্কেট এনালাইসিস করে তা প্রেডিকশন করা হয় । তার ওপর নির্ভর করে মানুষ কম দামি শেয়ার কিনে বেশি দামে বিক্রি করার চেষ্টা করে এবং মাঝখানে একটা অংশ প্রফিট করে ।

অনেক সময় দেখা যায় অনেকেই বেশি দামে শেয়ার কিনে কম দামে বিক্রি করে দেয় এবং লস করে । শেয়ার বাজারে করার জন্য অনেক ধৈর্য এবং চিন্তাভাবনার প্রয়োজন হয় । শেয়ার বাজারে ব্যবসা করা খুবই একটি জটিল প্রক্রিয়া। 

শেয়ার বাজারে কি কি বেচেকেনা হয়?

শেয়ার বাজারে একটি কোম্পানির শেয়ার সহ আরো বেশ কয়েকটি জিনিস বেচাকেনা করা হয় ।

সেগুলো হলো:

  • শেয়ার
  • বন্ড বা ডিভেঞ্চার
  • মিউচুয়াল ফান্ড 
  • ডিরাইভিটিজ
  • শেয়ার

শেয়ার হলো একটি কোম্পানির মালিকানা নির্দিষ্ট অংশ । শেয়ার গুলো আপনি যখন ইচ্ছা কিনতে এবং বিক্রি করতে পারবেন ।

শেয়ারের মাধ্যমে একজন একটি কোম্পানির নির্দিষ্ট মালিকান অর্জন করতে পারে । শেয়ার মার্কেটে সবচেয়ে বেশি ‘শেয়ার’ ক্রয় বিক্রয় হয়।  

  • বন্ড বা ডিভেঞ্চার 

শেয়ার এর মতোই বন্ড বা ডিভেঞ্চার বিক্রয় করা যায় । শেয়ার যখন ইচ্ছা করে এমন বিক্রয় করা যায় । কিন্তু বন্ড নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য কিনতে হয় । ওই নির্দিষ্ট মেয়াদ পূর্ন না হলে আপনি বন্ড বিক্রি করতে পারবেন না ।

See also  কিভাবে এসএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট দেখা যায়

যেমন মনে করুন, পাঁচ বছর মেয়াদে আপনি 5 লাখ টাকা দিয়ে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস এর বন্ড কিনেছেন । এখন পাঁচ বছর উত্তীর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বিক্রি করতে পারবেন না । 

তবে শেয়ারে লাভ লস দুটি হতে পারে কিন্তু বন্ড বা ডিভেঞ্চার এ লস হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম । এখানে লাভের হার অনেক বেশি হয় । 

তবে বাংলাদেশের স্টক এক্সচেঞ্জ গুলোতে বন্ড বা ডিভেঞ্চার খুবই কম বিক্রি হয় ।

  • মিউচুয়াল ফান্ড

মিউচুয়াল ফান্ড হল এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে অনেক মানুষ একত্রে টাকা ইনভেস্ট করে । তারপর সেই টাকা একজন শেয়ার মার্কেটে অভিজ্ঞ ব্যক্তি শেয়ার বাজারে খাটিয়ে লাভ করে । 

সেই লাভের টাকা মিউচুয়াল ফান্ডের প্রত্যেক সদস্যের মধ্যে ভাগাভাগি করা হয় । এইভাবে অনেক অনভিজ্ঞ ব্যক্তি ও শেয়ার বাজারে ইনভেস্ট করতে পারবে এবং ইনকাম করতে পারবে ।

  • ডিরাইভিটিজ

ডিরাইভিটিজ এর মাধ্যমে আগে থেকেই শেয়ার ক্রয় বিক্রয়ের চুক্তি হয়ে থাকে । কিন্তু পরে ক্রয় বিক্রয় হয় । অর্থাৎ চুক্তি আগে হয় কিন্তু ক্রয় বিক্রয় করে হয় ।

যেমন ধরুন, কোন একটি বাগানে ফল আসার আগেই অনেক সময় সেটি বিক্রি করে দেওয়া হয় এবং যে ক্রয় করে সে ফল আসার পরে ফল পায় । 

অর্থাৎ সে ফল দেখার আগে ফলের বাগান এর ফল কিনে নেয় বা নেওয়ার চুক্তি করে ।

শেয়ার বাজারে লাভ করার উপায়

শেয়ার বাজার লাভ করার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ভালো কোম্পানিতে বিনিয়োগ করা । অর্থাৎ ভালো কোন কোম্পানির শেয়ার কেনা ।

আপনি যদি খুব ভালোভাবে এনালাইসিস করে একটি ভাল কোন কোম্পানির শেয়ার কিনেন । তাহলে নির্দিষ্ট সময় পর অবশ্যই একটা ভালো রিটার্ন পাবেন । 

কিন্তু অন্যের কথা শুনে বা ঠিকমতো রিসার্চ না করে যে কোন একটি কোম্পানির শেয়ার কিনেন । তাহলে আপনার ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি । 

একটি কোম্পানির শেয়ার নির্দিষ্ট মেয়াদে ভালো করবে কিনা । সেটি দেখার জন্য তার বেশ কয়েকটি বিষয়ের উপর নজর দিতে হয়  

সেগুলো হলো:

  • কোম্পানির EPS

EPS শব্দের পূর্ণ অর্থ হলো Earning Per Share । অর্থাৎ কোন একটি কোম্পানির একটি শেয়ারের বিপরীতে কত টাকা লাভ/ইনকাম হয় তাকে আর্নিং পার শেয়ার  বলা হয় ।

কোম্পানির বছর শেষে মোট লাভকে । তার শেয়ারের সংখ্যা দিয়ে ভাগ দিলে ইপিএস পাওয়া যায় ।

  • কোম্পানির EPS Growth

একটি কোম্পানির বিগত বছরগুলোতে EPS কতটুকু বেড়েছে তাকে EPS Growth বলা হয় । প্রতিবছরের ইপিএস এর দিকেই নজর দিলে আমরা একটি কোম্পানি ইপিএস গ্রোথ দেখতে পারি ।

  • কোম্পানির ROI

একটি কোম্পানির ROI (Return On Investment) হলো ওই কোম্পানিতে ইনভেস্ট করে বছর শেষে কত টাকা আয় হয়েছে তার পরিমাণক ।

একটি কোম্পানি এক বছরে যে আয় করে বা লাভ করে । তার পরিমাণকে সরকারি কর বাদ দিয়ে তার মোট সম্পদ দ্বারা ভাগ করে, ১০০ দ্বারা গুন করলে কোম্পানির আরওয়াই পাওয়া যায় ।

একটি কোম্পানির এই কয়েকটি বিষয়ের উপর নির্ভর করে কোম্পানিটির শেয়ার মার্কেটের অবস্থা কেমন তা বলা যায় । অর্থাৎ কোন কোম্পানির ROI বেশি হলে তা শেয়ার মার্কেটের শক্ত অবস্থায় থাকে এবং ROI কম হলে তা তুলনামূলক দুর্বল অবস্থায় থাকে ।

  • কোম্পানির PE Ratio

PE (Price Earning Ratio) হলো একটি কোম্পানির তার শেয়ারের লাভ এবং শেয়ারের দামের অনুপাত । কোন কোম্পানির শেয়ারের দাম কে তার থেকে পাওয়া লাভ দ্বারা ভাগ করলে আমরা ওই কোম্পানির শেয়ার এর pe retio পেয়ে যাব। 

যদি একটি কোম্পানির শেয়ারের দাম ১০০ টাকা হয় এবং তার লাভ পাঁচ টাকা হয় । তাহলে ওই কোম্পানির পিই রেশিও হল    ১০০ ভাগ ৫ সমান ২০ টাকা ।

এর মানে দাঁড়ায় ওই কোম্পানির একটি শেয়ার ১০০ টাকায় কিনলে এবং তার লাভ যদি ৫ টাকা করে হয় । তাহলে আমার ইনভেস্টার টাকা দ্বিগুণ হতে ২০ বছর সময় লাগবে ।

একটি কোম্পানি থেকে আমরা কত বছরে কী পরিমান লাভ করতে পারি তা জানার জন্য PE Ratio হিসাব করা হয় । যে কোম্পানির রেশিওর মান যত কম ওই কোম্পানির প্রফিট তত বেশি  

উপরের উল্লেখিত এই বিষয়গুলো জানার জন্য আপনাকে বিশেষ কিছু করতে হবে না  । আপনার পছন্দের যেগুলো কোম্পানি রয়েছে অর্থাৎ যাদের শেয়ার আপনি কিনতে চান । তাদের ওয়েবসাইটে গেলেই আপনি সকল তথ্য দেখতে পারবেন ।

See also  চিঠির খাম এর উপর ঠিকানা লেখার নিয়ম

প্রতিটি কোম্পানি যারা শেয়ার মার্কেটে তাদের শেয়ার কেনাবেচা করে । তারা তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে সব কিছুই প্রকাশ করে । তাই আপনি যদি শুধু ওইসব কোম্পানির ওয়েবসাইট একটু ঘাটাঘাটি করেন তাহলেই এসব তথ্য দেখতে পারবেন ।

IPO কী

IPO (Initial public offering) সর্বপ্রথম একটি কোম্পানি যখন শেয়ার মার্কেটে তাদের শেয়ার বিক্রি করার জন্য প্রস্তাব করে তখন তাকে আইপিও বলা হয় । 

প্রথম অবস্থায় যে শেয়ারগুলো বিক্রি হয় তা আই পি এর মাধ্যমে বিক্রি করা হয় এবং তারপরে সাধারণভাবে মানুষজন শেয়ারকে না বিক্রি করতে পারে ।

শেয়ার বাজার সূচক কি?

শেয়ার বাজারে শেয়ারের মূল্যসমূহের দাম পরিবর্তনের হার নির্ণয় করা হয় শেয়ারবাজার সূচক বা ইনডেক্স এর উপর ভিত্তি করে ।

প্রতিটা বিষয়ের একটি করে ইনডেক্স বা সূচক রয়েছে।  যেমন: তাপমাত্রাকে আমরা ফারেনহাইটস বা সেলসিয়াস, ওজনকে কেজি কিংবা তরল পদার্থকে লিটার দ্বারা পরিমাপ করি । এগুলো হলো এসব পদার্থের সূচক  ।

শেয়ার বাজারের সূচক হলো শেয়ার বাজার সূচক বা ইনডেক্স । শেয়ার বাজার সূচকের মাধ্যমে একটি শেয়ারের দাম পরিবর্তনের হার নির্ণয় করা হয় ।

শেয়ারবাজার সূচক এর প্রকারভেদ

শেয়ার বাজারে সুযোগ বা ইনডেক্স এর প্রকারভেদ নানা রকম হয়ে থাকে । তবে বাংলাদেশের মার্কেটে তিন প্রকারের সূচক দেখা যায় সেগুলো হলো ।

  • X Inde
  • S Index
  • Top30 Index
  • X Index

শেয়ারবাজারের সকল প্রকার শেয়ার এক্স ইনডেক্সের আওতায় রাখা হয় । অর্থাৎ এখানে সকল কোম্পানির শেয়ার অন্তর্ভুক্ত থাকে। 

  • S Index

শেয়ার মার্কেটে যেসব কোম্পানি শরিয়া ভিত্তিক তাদেরকে নিয়ে এস ইনডেক্স গঠন করা হয় । শরিয়া ভিত্তিক সকল কোম্পানি S Index অন্তর্ভুক্ত ।

  • Top30 Index

একটি শেয়ার বাজারের সেরা ৩০টি ব্লু চিপ (Blue Chip) কোম্পানি নিয়ে টপ থার্টি ইনডেক্স গঠন করা হয়  । এই ইন্ডেক্সের মধ্যে সেরা ৩০ টি কোম্পানি অন্তর্ভুক্ত থাকে । 

এখন প্রশ্ন আসতে পারে Blue Chip কোম্পানি আবার কি ?

আমি সংক্ষেপে বলি, যে সব কোম্পানি তাদের লভ্যাংশের একটা নির্দিষ্ট অংশ তাদের শেয়ার হোল্ডারদের দিয়ে দেয় তাদেরকে ব্লু চিপ(Blue Chip) কোম্পানি বলে ।

এসব কোম্পানি মূলত অনেক শক্তিশালী হয় এবং শেয়ার বাজারে এরা ভালো পজিশনে থাকে ।

শেয়ারবাজার সূচক মূল্য সূচক বা ইনডেক্স এর উপর ভিত্তি করে একটি দেশের শেয়ার বাজার কতটা শক্তিশালী তা নির্ণয় করা হয় । শেয়ারবাজার সূচক যত ভালো হবে ওই দেশের শেয়ার বাজার এবং অর্থনীতি ততটাই শক্তিশালী হবে ।

একটি কোম্পানির শেয়ার বাজারে অবস্থান কিরকম তা নির্ণয় করা হয় Free Flow Market Capital এর উপর ভিত্তি করে । 

একটি কোম্পানির Free Flow Market Capital হলো ওই কোম্পানির মোট শেয়ার এর মধ্যে কতগুলো শেয়ার স্টক মার্কেটে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে ।

মনে করুন, একটি কোম্পানির ১০ হাজার শেয়ার রয়েছে এবং এখান থেকে ওই কোম্পানিটির তিন হাজার শেয়ার মার্কেট এর মাধ্যমে মানুষের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে । এখানে ওই তিন হাজার শেয়ার হলো ওই কোম্পানির ফ্রি ফ্লো মার্কেট ক্যাপিটাল ।

একটি কোম্পানির শেয়ারের দাম দিন দিন যত বৃদ্ধি পাবে । ওই কোম্পানিটি তত শেয়ার মার্কেটে শক্তিশালী অবস্থানে যাবে।

একটি উদাহরণের মাধ্যমে আসুন বোঝার চেষ্টা করি,

       

Company Index ১0 তারিখ   Index ১১ তারিখ    Index ১২ তারিখ    Index ১৩ তারিখ
A১০০.২১১০৫.৭৪১০৮.৫১০৭.২
B১১০.২১০৮.৫১০৮.৫১৫৫.০
C১৪২.২১৪০.৮১৩৯.১৫১৩৮.০

উপরের ছক থেকে আমরা দেখতে পাচ্ছি । তিনটি কোম্পানির মধ্যে A কোম্পানিটি ইনডেক্স প্রতিদিন একটু একটু করে বৃদ্ধি পেয়েছে । 

কিন্তু B ও C কোম্পানি ধীরে ধীরে কমে আসছে । এখান থেকে আমরা বলে দিতে পারি । A কোম্পানিটির অবস্থান দিন দিন শক্তিশালী হয়েছে । এবং B ও C এর মার্কেট অবস্থান দূর্বল হচ্ছে । 

See also  দরখাস্ত / আবেদনপত্র লেখার নিয়ম

Bull Market এবং Bear Market কি?

Bull এবং Bear মার্কেটের অবস্থার কথা হয়তো আপনি অনেক সময় শুনে থাকবেন । 

Bull মার্কেট এবং Bear মার্কেট
Bull মার্কেট এবং Bear মার্কেট

আমরা সকলেই জানি Bull শব্দের অর্থ হলো সাড় এবং Bear শব্দের অর্থ হলো ভাল্লুক । এখন আমরা জানবো বুল এবং বিয়ার মার্কেট বলতে কি বুঝায় ।

Bull মার্কেট 🐂

যখন শেয়ার বাজারে শেয়ারের দাম গুলো উপরের দিকে থাকে । অর্থাৎ ক্রমান্বয়ে দাম বৃদ্ধি পেতে থাকে । তাকে Bull মার্কেট বলা হয় । 

Bull মার্কেট এর মাধ্যমে, একটি শেয়ার বাজারের শেয়ারের দাম বাড়ছে বলে চিহ্নিত করা হয় । একটি সারের সিং উপরের দিকে থাকে, তেমনি মার্কেট যখন উপরের দিকে যেতে থাকে । তখনকার অবস্থা কে বুল মার্কেট বলা হয় ।

Bear মার্কেট 🐻

আবার অনেক সময় দেখা যায় শেয়ার মার্কেটে শেয়ার গুলোর দাম  ক্রমান্বয়ে কমতে থাকে । এই অবস্থাকে Bear মার্কেট বলা হয় । বিয়ার মার্কেটে মাধ্যমে একটি মার্কেটে শেয়ারের দাম কমছে বলে চিহ্নিত করা হয় ।

একটি ভাল্লুকের মুখ সাধারণত নিচের দিকে হয়ে থাকে । তাই যখন শেয়ারের দাম নিচের দিকে নামতে থাকে অর্থাৎ কমতে থাকে । তখন শেয়ার বাজারের অবস্থাকে বিয়ার মার্কেট বলা হয় ।

শেয়ারের দাম বাড়লে এবং দাম কমলে যে বুল এবং বিয়ার মার্কেট বলা হয় ব্যাপারটি কিন্তু এরকম নয় । একটি শেয়ারের দাম একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে থেকে উপরে উঠলে কিংবা নির্দিষ্ট পর্যায় থেকে নিচে নামলে । তাকে Bull এবং Bear মার্কেট বলে চিহ্নিত করা হয় ।

সাধারণত একটি শেয়ার মার্কেটে শেয়ারের দাম ২০% বাড়লে তাকে Bull মার্কেট এবং ২০% কম হলে তাকে Bese মার্কেট বলা হয়।

শেয়ার এর দাম বাড়ে এবং কমে কেন?

শেয়ার বাজারে শেয়ারের দাম প্রতিনিয়তই কমা এবং বাড়ার মধ্যে থাকে । কম দামের শেয়ার কিনে বেশি দামি বিক্রি করার মাধ্যমে বেশিরভাগ মানুষ শেয়ার মার্কেট থেকে প্রফিট করে ।

শেয়ার মার্কেটে দাম কমা এবং বাড়ার জন্য বিভিন্ন কারণ দায়ী । এগুলো সম্পর্কে আমাদের জানার আগ্রহ জন্মে   তাই এখানে আমি শেয়ার মার্কেটের দাম এবং বাড়ার কারণ বলছি ।

আমরা একটু অন্যভাবে চিন্তা করি আচ্ছা আমাদের বাজারে জিনিসপত্রের দাম কেন কম বেশি হয় । এই প্রশ্নের উত্তর হয়তো আপনি জানেন ।

সাধারণত কোন কিছুর চাহিদা তুলনায় যোগান কম থাকলে জিনিসটির দাম বেড়ে যায় । যেমন: কিছুদিন আগে 20 টাকা কেজি পিয়াজ আমরা ১২০ টাকা দিয়ে কিনে খেয়েছি । 

কেননা তখন যোগানের পরিমাণ খুবই কমে গিয়েছিল   ওই সময় বাজারে পেঁয়াজের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছিল । আবার একই কথা তেল এবং সার এবং অন্যান্য সামগ্রী জন্য প্রযোজ্য ।

ঠিক তেমনি শেয়ার মার্কেটেও কোন একটি কোম্পানির শেয়ারের চাহিদা বেশি হলে তার দাম এমনিতেই বেড়ে যায় । অর্থাৎ শেয়ার বাজারে কোন একটি কোম্পানির শেয়ারের সংখ্যা কম হয় এবং চাহিদা যদি অনেক বেশি হয় । তাহলে দেখা যাবে এমনিতেই শেয়ারের দাম অনেক বেড়ে গিয়েছে ।

একটি শেয়ারের দাম কমার জন্য এর উল্টো প্রক্রিয়াটি দায়ী । যখন কোন একটি শেয়ারের চাহিদা কমে যায় অর্থাৎ এর ক্রেতার তুলনায় বিক্রেতার পরিমাণ বেশি হয়ে যায় । তখন ওই শেয়ারের দাম অটোমেটিক ভাবে কমে যায় ।

কেননা একটি বাজারে ধরুন আলুর অনেক মজুদ রয়েছে । কিন্তু ক্রেতার সংখ্যা খুবই কম । সেক্ষেত্রে কিন্তু আলুর দাম অটোমেটিক ভাবে কমে যাবে   শেয়ার বাজারেও এই ব্যাপারটাই ঘটে । যখন বিক্রেতার তুলনায় ক্রেতার সংখ্যা কমে যায় তখনই শেয়ারের দাম কমে যায় ।

শেষ কথা 

একটি বাজারে শেয়ারের দাম কম বেশি হওয়া স্বাভাবিক । সঠিকভাবে মার্কেটে এনালাইসিস করে ইনভেস্ট করলে শেয়ারের মাধ্যমে অনেক বেশি টাকা প্রফিট করা সম্ভব । তাই শেয়ার মার্কেটে ইনভেস্ট করার আগে ভালো করে রিসার্চ করে নিবেন । 

আজকের এই পোষ্টের মাধ্যমে আপনি হয়তো শেয়ার মার্কেট সম্পর্কে মোটামুটি একটি ধারণা পেয়েছেন ।

পরিশেষে একটি কথা দ্বারা আর্টিকেলটা শেষ করতে চাই । সেটি হল,

ওয়ারেন বাফেট বলেছেন, ” শেয়ার বাজারে কেউ টাকা দিয়ে অভিজ্ঞতা কিনে । আর কেউ অভিজ্ঞতা দিয়ে টাকা কিনে ” ।

.

Leave a Comment

Share via
Copy link
Powered by Social Snap